২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুন-জানুয়ারি

কুমিল্লা ইপিজেড থেকে রেকর্ড ৬১৬.৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুন-জানুয়ারি) রেকর্ড ৬১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে কুমিল্লা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (ইপিজেড)।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুন-জানুয়ারি) রেকর্ড ৬১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে কুমিল্লা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (ইপিজেড)। অর্থবছরের বাকি পাঁচ মাসে এটি ১ হাজার মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত বছরগুলোয় একই সময়ে এমন রফতানির রেকর্ড নেই, এবারই প্রথম এমন সাফল্য এসেছে।

ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চর্থা এলাকায় ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কুমিল্লা ইপিজেড। এখানে ৪৮টি শিল্প-কারখানা রয়েছে, যেখানে কর্মরত রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কুমিল্লা ইপিজেড থেকে গত তিন অর্থবছরে ২ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। তবে ২০২১-২৪ পর্যন্ত রফতানি কমে গিয়েছিল।

২০২১-২২ অর্থবছরে ৮১৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৯০ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭১১ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য যায়। দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার কমে যায় রফতানি।

রফতানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে কুমিল্লা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহবুব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এর মধ্যে একটি কারণ ছিল করোনার ধাক্কা। আরেকটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। করোনায় তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের রফতানি কমে যায়। অনেক কাঁচামাল আসে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধের কারণে কাঁচামাল আমদানিতে যেমন বাধার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি রফতানিকারক দেশগুলো হাত গুটিয়ে নিয়েছে। যে কারণে পণ্যের অর্ডার কমে যায়, তবে বড় প্রভাব পড়েনি। আমরা বিভিন্নভাবে রফতানি চালিয়ে গেছি, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে ৫০ হাজার লোকবল কাজ করছে, যাদের বেশির ভাগই স্থানীয়। প্রতি মাসে বেতন-ভাতা বাবদ ২০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। তাদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাজার ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। যাতে আশ্রাফপুরসহ শহরতলির ইয়াছিন মার্কেট, পকেট গেট, নেউরা, চর্থা, মেডিকেল রোড এলাকায় বেড়েছে অর্থনৈতিক লেনদেন। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ায় সেখানেও বেড়েছে কর্মসংস্থান। বেড়েছে বাড়ি ভাড়া। কাঁচাঘর থেকে হয়েছে পাকাঘর। একতলা ভবন হয়েছে বহুতল।’

ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ৬৬ শতাংশই নারী উল্লেখ করে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইপিজেড। প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন হাজার লোক অস্থায়ীভাবে কাজ করেন। এছাড়া ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৭০ জন বিদেশী শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। সবার জীবনযাত্রার জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, কুমিল্লা ইপিজেডের সব প্লট এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যে কারণে বর্তমানে বিনিয়োগ উপযোগী কোনো প্লট খালি না থাকায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও প্লট বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, কুমিল্লা ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্যের ৯৫ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। অন্যদিকে এ ইপিজেডে বিনিয়োগে শীর্ষে রয়েছে ১৫টি দেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, কানাডা, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিনিয়োগ রয়েছে কুমিল্লা ইপিজেডে।

আরও